Menu
Thumbnail

টিউশনি - কয়েস সামী

Profile Picture

Aysha Siddika

লিপিকার
  • বুক রিভিউ
  • Jul 23, 2021
  • 191
  • 1

বইয়ের নাম : টিউশনি (উপন্যাস)

লেখক: কয়েস সামী

বইয়ের ধরণ: অতিপ্রাকৃত, ভৌতিক, রহস্য ও সামাজিক

প্রকাশনী: অনুজ প্রকাশনী।

মূল্য: ২০০/-

○লেখক সম্পর্কে কিছু কথা :

লেখক কয়েস সামী পেশায় একজন ব্যাংকার। তবে শখ থেকে তার বই লেখা। তার লেখা "লাকি থার্টিন" বই টি ২০১৯ দেশ পান্ডুলিপি পুরষ্কার পায়। এছাড়া তার সকল বই ই পাঠক মহলে জনপ্রিয়। তবে লেখকের "টিউশনি" বই টি আমার প্রথম পড়া। তবে তার লেখা প্রথম পড়েই খুব মুগ্ধ হয়েছি।

বইয়ের প্রচ্ছদ: বই এর প্রচ্ছদ টি খুবই অসাধারণ। উপন্যাস এর সাথে মিল রেখে প্রচ্ছদ টি করা হয়েছে। প্রথমে প্রচ্ছদ টি সহজে কেউ বুঝতে পারবে, না তবে উপন্যাস টি শেষ করলে প্রচ্ছদ টি পাঠক অনুধাবন করতে পারবে আশা করা যায়।

○গল্পের সারাংশ_ লাবিবাকে পড়াতে গিয়ে আবির পড়ে গেল অদ্ভূত এক সমস্যায়। লাবিবা তাকে পরিচয় করিয়ে দিল রহস্যময় চরিত্র মস ব্রুটালের সাথে। মিস ব্রুটাল রহস্যের সমাধান করতে না করতেই আত্মহত্যা করে বসলো আবীরের প্রেমীকা রাইসা। রাইসার সুইসাইড নোট চিঠি হয়ে পৌঁছালো আবীরের কাছে। চিঠি পড়ে জানা গেল রাইসার আত্মহত্যার প্ররোচনাকারী কে। আবীর কি পেরেছিল রাইসা হত্যার প্রতিশোধ নিতে? আবীর কি পেরেছিল মিস ব্রুটাল রহস্যের উদঘাটন করতে?

○মতামত:

"টিউশনি" বইটির নাম শুনেই ভেবেছিলাম চিরাচরিত বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় যে টিউশনি সেরকম কিছু। যখন পড়তে শুরু করলাম তখন থেকেই মনে হলো সামাজিক উপন্যাস। কিন্তু পড়ে যত গভীরে যাচ্ছিলাম মনে হচ্ছিল হরর কোনো উপন্যাস কৌতুহল বেড়েই যাচ্ছিল। এর কিছু পড়ে উপন্যাস টি মনে হলো সাইকো থ্রিলার। যত গভীরে যাচ্ছিলাম ততই মতামত পরিবর্তিত হচ্ছিল। শুরুতে ভৌতিক আবহ থেকে থ্রিলার তারপর গল্পের শেষ টা যে আমাদের সমাজেরই বাস্তব প্রেক্ষাপট বুঝতেই পারিনি। "টিউশনি" উপন্যাস টা যেন আয়না হিসেবে আমাদের সমাজের প্রতিবিম্ব টা তুলে ধরেছেন লেখক। "টিউশনি" উপন্যাস টি আসলেই একটি সামাজিক উপন্যাস। উপন্যাস টা সম্পর্কে বলে শেষ করা যাবে না। পারিপার্শ্বিক প্রায় সমস্ত দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে এই উপন্যাস টি তে। লেখক পাঠক দের যে মেসেজ টি দিতে চেয়েছে উপন্যাস টির মাধ্যমে তা দিতে তিনি সক্ষম হয়েছেন। বই এর ছোট খাট কিছু বিষয় বাদ দিলে বই টি সকল বয়সি পাঠক এর জন্যই উপযোগী এবং মাস্টরিড একটি বই।

○বইয়ের মুল আলোচনা :

টিউশনি বইটিতে মূলত বর্তমান প্রেক্ষাপটের একটি সামাজিক সমস্যা তুলে ধরেছেন লেখক পাঠক মহলে। বই টি শুরুর দিকে বোঝা যাবে না এর মুল বিষয়বস্তু। প্রথম দিকে ভৌতিক, রহস্য মনে হবে। কিন্তু শেষ এসে পাঠক ভড়কে যাবে। তবে বইটিতে লেখক বর্তমান সমাজের ভৌতিক রূপটিই অনেক সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করেছেন। যা পাঠক শেষ টুকু পড়ে বুঝতে পারবে। বইটি এমন যে পাঠক বইটি শেষ না করে উঠতেই পারবে না। ভৌতিক, অলৌকিকতা, রহস্য, শিহরণ নিয়ে উপন্যাস টি অসাধারণ করে লেখক গড়ে তুলেছেন। উপন্যাসটির শুরুতে বর্ণনা করি এর মূল চরিত্রগুলোর দিকে। শুরুতে মনে হবে মূল চরিত্র যার জবানীতে গল্পটি এগিয়ে গেছে সিলেটের আবীর নামের একটি ছেলে। কিন্তু আদতে গল্পের মূলা চরিত্র আবীরের ছাত্রী লাবিবা যে দশম শ্রেনীতে পড়ে। যাকে কেন্দ্র করে মূলত গল্প গড়ে ওঠে। এছাড়া গল্পের অন্যতম চরিত্র আবিরের প্রেমিকা রাইসা এবং আবীরের বন্ধু রাশেদ। এছাড়া কিছু চরিত্র আছে যাদের মধ্যে মিস ব্রুটাল এক রহস্যময় চরিত্র (যিনি পাঠক কে চুম্বক এর মত সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তার রহস্য উদঘাটন এর জন্য হলেও পাঠক উপন্যাস এর শেষ অব্দি আসবে)। এছাড়া আছে লাবিবার মা যিনি একজন ডাক্তার, আবীরের কাজিন যিনি একজন সাইকিয়াটিস্ট্র ড. রিয়াদ মাহমুদ যাদের বিশেষ ভূমিকা আছে উপন্যাসটি তে। এছাড়া একটা বিশেষ চরিত্র আছে যিনি আবীরের প্রেমিকা রাইসার প্রথম প্রেমিক (যার নাম ও আবীর)। গল্পটি গড়ে উঠেছে আমাদের সমাজের তিন শ্রেণির মানুষ কে কেন্দ্র করে। এক শ্রেণির মানুষ যারা মূলত অপরাধী, আর একশ্রেনী যারা সমাজে অপরাধীদের শিকারে পরিণত হয়। আর একটা বিশেষ শ্রেনীর মানুষ আছে আমাদের সমাজে। যারা অপরাধী নয় কিন্তু তারা ভীতু প্রকৃতির হয়। তারা ভিক্টিম না বলে অপরাধের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলে না। ঝামেলায় জড়ানোর ভয়ে চুপ করে থাকে। এই তিন শ্রেনীর মানুষ কে নিয়ে গল্প এগিয়ে গেছে। গল্পের শুরু সিলেটের বাসিন্দা আবীরকে দিয়ে যে কিনা মাস্টার্স পরীক্ষা দিবে। তার পরীক্ষার কারণে সে টিউশনি কমিয়ে আনছিল। হঠাৎ আবীরের বন্ধু রাশেদ তার কাছে নিয়ে এল এক টিউশনির প্রস্তাব। না চাইতেও তাকে লাবিবা নামের দশম শ্রেনীর ছাত্রীকে পড়াতে যেতে হতো। পড়াতে গিয়েই অবীর পড়ে এক বিপাকে। লাবিবা আবীর এর সাথে পরিচয় করিয়ে দেয় এক রহস্যময় মেয়ে মিস ব্রুটাল এর সাথে। আর তার পর থেকেই আবীরের সাথে ঘটতে থাকে অদ্ভূত সব অলৌকিক ঘটনা। এসব রহস্য সমাধান করার আগেই অজ্ঞাত এক কারণে আত্মহত্যা করেন আবীরের প্রেমিকা রাইসা। আত্মহত্যা করার পড় রাইসার লিখে যাওয়া এক চিঠি পৌঁছে যায় আবীরের কাছে। চিঠিতে লিখে যায় এই আত্মহত্যার রহস্য। আবীর কি খুজে পায় রাইসার আত্মহত্যার করার পেছনে দায়ী ব্যক্তি কে? আবীর কি পারে রাইসার মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে?? আবীর কি পারবে মিস ব্রুটালের রহস্য সমাধান করতে? লাবিবা আর রাইসার মিল খুজে বের করতে? এই সব কিছুর রহস্য উদঘাটন করতে হলে পড়তে হবে "টিউশনি" উপন্যাস টি।

○বইয়ের খুঁটিনাটি বিষয়বস্তু:

একটি সমাজ কে তুলে ধরার যত উপকরণ তার সমস্ত কিছুই লেখক তার উপন্যাস এ উপস্থাপন করেছেন। লেখক শুধু সামাজিক সমস্যাকেই তুলে ধরেন নি এখানে তিনি ঘটনার ফাকে ফাকে বিভিন্ন হাসির ঘটনা, শিক্ষাণীয় ঘটনা কে ফুটিয়ে তুলেছেন। "টিউশনি" উপন্যাসটি তে কিছু দারুণ ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে তার মধ্য যেমন আছে ছাত্র-ছাত্রী পড়ানোর টিপস তেমনি সামাজিক ও ধর্মীয় নীতি বোধ। তবে উপন্যাসের একটা ঘটনা খুব দারুণ করে ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক। যেখানে আবীর তার কলেজের পুকুরে বসে থাকে আর তার পাশে বসা অপরিচিত এক মেয়েকে একটি ছেলে চাপাতি হাতে মারতে আসে। মেয়েটি ভয় পেয়ে মূল চরিত্র আবীরের কাছে সাহায্য চাইতে আসলে আবীর সাহায্য না করে নিজেই ভয়ে দৌড়ে পালায়। পরে যখন এই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হয় আর আবীর নিজের কাছে অনুতপ্ত হয় কেন সে তখন মেয়েটিকে সাহায্য করল না। এই ঘটনা টি আমার মনে হয় আমাদের সমাজের বাস্তব চিত্র। লেখক আয়না ধরে এর প্রতিবিম্ব টা আমাদের দেখিয়ে দিচ্ছে। লেখক এখানে আমাদের সমাজের প্রতিটি মানুষের কথা তুলে ধরেছে এই ঘটনার মাধ্যমে। আর একটি ঘটনার মাধ্যমে উপন্যাসে লেখক তার রসবোধ এর পরিচয় দিয়েছেন। আবীর যখন সমস্ত ঘটনা নিয়ে বিচলিত তখন সে একজন মানসিক ডাক্তারের দারস্ত হয়। ডাক্তারের ওয়েটিংরুম এর তার পরিচয় হয় এক ব্যাংক মালিক এর সাথে। সেখানে আবীর ব্যাংক এর চাকরি পাওয়ার সুবিধার্থে আলাপচারীতা গড়ে তোলে সেই ব্যাংক মালিকের সাথে। পাগল ব্যাংক মালিকের নিজের ব্যাংক প্রতিষ্ঠাতা গল্প খুব ই হাস্যরসাত্মক ছিল। তবে সব কিছুর পরেও সামাজিক সমস্যা টিই প্রাধান্য হয়ে উঠবে এবং এই বিষয় টি পাঠক কে ভাবিয়ে তুলবে।

মন্তব্য: লেখকের লেখার একটা বিষয় আমার কাছে অস্পষ্ট লেগেছে তা হলো মূল চরিত্র আবীর যখন প্রেমিকার সাথে রাগ করে সীম কার্ড ভেঙে ফেলে তখন যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু যেখানে তাদের পরিচয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তখন তারা ফেইসবুক বা মেসেঞ্জার এর মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারত। বিষয় টা আমার কাছে অস্পষ্ট। এই বিষয় টা বাদ দিলে পুরো উপন্যাসটি সত্যি অসাধারণ। বই পড়ূয়াদের উচিত বই টি পড়া। এবং এই বই টি সংগ্রহে রাখা।

পাঠকদের জন্য কিছু চুম্বক অংশ: * রূদ্ধশ্বাস পাঠ শেষে ভড়কে যাবে পাঠক।

*ফার্মগেট তেজকুনিপাড়ায় ফ্যানের সাথে ওড়ানা পেচিয়ে আত্মহত্যা রাই (২০) নামের এক তরুনীর।

*আই হেট রাশেদ স্যার মোস্ট।

*আপনারা ছেলেরা এত খারপ কেন?

রিপোর্ট

সাম্প্রতিক মন্তব্য

কোনও মন্তব্য নেই!

মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য করার জন্য লগইন করুন!