Menu
Thumbnail

বেগম রোকেয়ার ব্যাপারে নানান তথ্য

Profile Picture

Sefaat Hasan

লিপিকার
  • অনুপ্রেরণা
  • Jun 20, 2021
  • 39
  • 2

বেগম রোকেয়ার ব্যাপারে নানান তথ্য-

বাংলার নারী জাগরণে সবচেয়ে বেশি অবদান বেগম রোকেয়ার। উনাকে বলা হয়ে থাকে নারী জাগরণের অগ্রদূত। নারীদের শিক্ষায় তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। নারীদের মধ্যে তিনি পরিবর্তন নিয়ে এসেছেন। তার লেখনিতে ঘোষিত হয়েছিল মানুষ হিসেবে ভগিনীদের আত্মসম্মান ও নিজস্ব অস্তিত্ব প্রতিষ্ঠার কথা।

বেগম রোকেয়া ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুরের পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা জহিরুদ্দিন মোহাম্মদ আবু আলী হায়দার সাবের ছিলেন দিনাজপুর জেলার প্রভাবশালী ব্যক্তি। আর মাতা রাহাতুন্নেসা সাবেরা চৌধুরানী। তারা দুজনই ছিলেন বেশ উচ্চবংশীয় এবং জমিদার শ্রেণিভুক্ত।

লেখিকা ১৯৩২ সালের ০৯ ডিসেম্বর কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন। প্রতিবছর ৯ ডিসেম্বর “রোকেয়া দিবস” হিসেবে পালিত হয়ে থাকে।

বেগম রোকেয়ার ব্যাপারে নানান তথ্যঃ

🚩 ১৯০২ সালে ‘পিপাসা’ নামক একটি গল্প লিখে বাংলা সাহিত্য জগতে বেগম রোকেয়া তার পথচলা শুরু করেন।

🚩বেগম রোকেয়া তার ‘পদ্মরাগ’ উপন্যাসটি বড় ভাইয়ের নামে উৎসর্গ করে লিখেছিলেন, “দাদা! আমাকে তুমিই হাতে গড়িয়া তুলিয়াছ।”

🚩 বেগম রোকেয়া ভাগলপুরে প্রথম প্রতিষ্ঠিত করে রেখেছিলেন সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল। স্বামী সাখাওয়াত হোসেনের পরামর্শ ও সাহায্যে রোকেয়া প্রতিষ্ঠিত করেন এই বালিকা বিদ্যালয়। এই উদ্দেশ্যে স্বামীর কাছ থেকে বেগম রোকেয়া পান প্রায় দশ হাজার টাকা।

🚩১৯০৯ সালের ১ অক্টোবর ভাগলপুরের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ শাহ মালেক আব্দুলের সরকারি বাসভবন গোলকুঠির বারান্দায় পাটি বিছিয়ে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুলের যাত্রা শুরু হয়। সম্বল একখানা বেঞ্চ ও মাত্র পাঁচজন ছাত্রী, তার মধ্যে ছিলো আব্দুল মালেকেরই চার কন্যা।

🚩 ১৯১৬ সালে তিনি বাঙালি মুসলিম নারীদের সংগঠন ‘আঞ্জুমান খাওয়াতিনে ইসলাম’ প্রতিষ্ঠা করেন। যেখানে বিধবা নারীদের কর্মসংস্থান, দরিদ্র অসহায় বালিকাদের শিক্ষা, বিয়ের ব্যবস্থা, দুঃস্থ মহিলাদের কুটির শিল্পের প্রশিক্ষণ, নিরক্ষরদের অক্ষর জ্ঞান দান, বস্তিবাসী মহিলাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য এই প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন।

🚩 ১৯৩১ সালে রোকেয়ার প্রতিষ্ঠিত সাখাওয়াত মেমোরিয়াল বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা প্রথমবারের মতো কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশিকা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে এবং স্কুলের প্রায় ৬০০ ছাত্রী বঙ্গীয় শিক্ষা পরিষদের পরীক্ষায়ও কৃতিত্বের সঙ্গে পাশ করে।

🚩 ১৯৩২ সালের ৮ ডিসেম্বর রোকেয়া রোজকার মতো রাত ১১টা পর্যন্ত লেখালেখি করে ঘুমাতে যান। ৯ ডিসেম্বর ভোর চারটায় ঘুম থেকে জেগে ওজু করেই কেমন যেন অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। ডাক্তার আসার আগেই ভোর ৫:৩০ মিনিটে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি।

🚩বেগম রোকেয়ার ১৩৭তম জন্মবার্ষিকী (২০১৭ সালে) উপলক্ষে গুগল তার স্মরণে একটি ডুডল তৈরি করে৷ গুগলের হোমপেজে গেলেই দেখা গেছে, এক জমিদার বাড়ির অন্দরমহলের দৃশ্যপট। সাদা পোশাকের চশমা পরা এক নারী বই হাতে নিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন। এক ঝলক দেখেই বোঝা যায় যে তিনি হলেন আমাদের বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন।

🚩রংপুর বিভাগের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ‘রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়’ ৮ অক্টোবর ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। অতঃপর ২০০৯ সালে ‘নারী জাগরণের অগ্রদূত’ হিসেবে তার নামকে স্মরণীয় করে রাখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়টির বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় নামকরণ করেন। এটিই কোনো নারীর নামে বাংলাদেশের প্রথম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়।

লিখা - সিফাত হাসান সুমাইয়া

রিপোর্ট

সাম্প্রতিক মন্তব্য

কোনও মন্তব্য নেই!

মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য করার জন্য লগইন করুন!